লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ডাটা সায়েন্সের দক্ষতা বাড়ানোর গুরুত্ব ও দিকনির্দেশকা বিষয়ক ভার্চুয়াল সেমিনার অনুষ্ঠিত

লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি কম্পিউটার ক্লাবের তত্ত্বাবধানে “উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ডাটা সায়েন্সের দক্ষতা বাড়ানোর গুরুত্ব” বিষয়ক ভার্চুয়াল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির বর্তমান এই বিশ্বে ডেটা সায়েন্স, এপ্লাইড এনালিটিকস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মতো বিষয়কে উন্নত দেশগুলো এতো বেশি গুরুত্ব দেয় যে, এর প্রতিফলন আমরা বিশ্বের নামকরা প্রথম সারির কোম্পানি গুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। যেমন অ্যামাজন, ফেসবুক, গুগল, টেসলা, উবার, নেটফ্লিক্স, অ্যাপল সহ অসংখ্য প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান যা প্রতিমুহুর্তে বিশ্বের আনাচে কানাচে মানুষের জীবন যাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির এসব ক্ষেত্রে কোনও সুস্পষ্ট কিংবা বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ নেই। তাই উক্ত ওয়েবিনার এবং এর প্যানেল আলোচনায় বিশ্ব ইন্ডাস্ট্রিতে উচ্চস্থ পদে দীর্ঘসময় ধরে সরাসরি কাজ করা এমন চারজন বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উনাদের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি আধুনিক অর্থনীতির লক্ষ্যে নানাবিধ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা প্রতিযোগিতাময় এ বিশ্বে ডেটা সায়েন্স, এপ্লাইড এনালিটিকস এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষময়তায় উন্নত বিশ্বের রাজত্বে বাংলাদেশের ন্যায় একটি উন্নয়নশীল দেশের সুনাম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। এ লক্ষ্যে দেশীয় ইন্ডাস্ট্রিদের ভুমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে একদম শুরু থেকে নিজেদের প্রস্তুত করবে তারও একটি রুপরেখা উপস্থাপন করা হয়। পুরো ওয়েবিনারটিতে শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ উপস্থিত সকলেই স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং প্যানেল আলোচনার সময়ে নিজেদের নানাবিধ জিজ্ঞাসাগুলো বিজ্ঞ প্যানেলিস্টদের কাছে উত্থাপন করে নিজেদের আগ্রহ এবং এসব সেক্টরে উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে নানা দিক নির্দেশনা লাভের সুযোগ পান।

রবিবার (৩০ আগস্ট ২০২০) সন্ধ্যা ৮ঃ০০ টা থেকে রাত ১০:৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ রাগীব আলী এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শ্রীযুক্ত বনমালী ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাই, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর নাসির উদ্দিন আহমেদ, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর এম রাকিব উদ্দীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মেজর (অব.) মো শাহ আলম, পিএসসি।

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান আরিফ আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে কী-নোট স্পীকার হিসেবে উপস্তিত ছিলেন নরওয়ের প্রসিদ্ধ টেকজায়ান্ট ভার্নার এর হেড অব এনালিটিকস জুয়েল রানা, পিএচডি, মালেয়েশিয়ার অন্যতম প্রধান টেলিকম কম্পানি ডিজি এর হেড অব ডাটা সায়েন্স আসিফ এম ইকবাল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ রাশেদ হায়দার নূরী এবং সুইডেনে পিএচডিরত বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ টেক কম্পানি এসএলাভেন এর সহপ্রতিষ্টাতা ও চীফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) সারওয়ার মোরশেদ। ভার্চুয়াল এই সেমিনারে দুটো কীনোট স্পীচ এবং একটি প্যানেল ডিসকাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিসহ বিজ্ঞ চার প্যানেলিস্ট বিশিষ্ট প্যানেল ডিসকাশনে সমন্বয়ক ও সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মোঃ সাঈদুর রহমান কোহিনুর।

সেমিনারে আগত কী-নোট স্পীকারগণ উনাদের প্রতিষ্টিত ভ্যালু বেইজ প্রতিষ্টান ও লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাথে ভবিষ্যত কোলাবরেশনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসাথে সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নউত্তরের এক পর্যায়ে ডাটা সায়ন্সে আগ্রহী ছাত্রছাত্রী ও তরুণ গবেষকদের সিভি প্রদানকল্পে নানাবিধ দিকনির্দেশনা ও সহযোগীতা প্রদানসহ উপযুক্ততার ভিত্তিতে উনাদের সাথেও গবেষণামূলক কাজ করার সুযোগ প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।

 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.